25%
ছাড়

শূন্য

75.00

ভূমিকা
আমাদের চারপাশের চেনা জগৎ এবং চারপাশের বাইরে অচেনা জগৎ নিয়ে আমার নিজের কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। মাঝে মাঝে আমার অনিন্দ্রা রোগ হয়। বাসার সবাই ঘুমিয়ে থাকে আমি বারান্দায় বসে সিগারেটের পর সিগারেট টেনে হার্ট, ফুসফুসের যত রকম ক্ষতি করা সম্ভব ক্ষতি করতে থাকি। আর তখন অদ্ভুত সব চিন্তা-ভাবনা আসতে থাকে। মনে হতে থাকে- আমাদের এই শরীরের ভেতর আছে আরেকটি শরীর, আমাদের এই জগতের ভেতরে আছে আরেকটি জগৎ। সেই জগৎ সম্পর্কে লিখলে কেমন হয়?
শূন্য নামের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার এই হল ‘শানে নজুল।’ শূন্য বইটিতে যুক্তির চেয়ে কল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার সময় লেখককে সচেতনভাবে কল্পনা পরিহার করে যুক্তিতে থাকার চেষ্টা করতে হয়। আমি কখনো তা পারি না। আমি শ্রদ্ধা করি- যুক্তি, কিন্তু ভালবাসি-কল্পনা। আর এটা তো জাগতিক সত্য ভালবাসার এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ভালবাসাই জয়ী হয়।
আমার এই কল্পকাহিনী যদি পাঠক-পাঠিকাদের কিছুটা হলেও দ্বিতীয় জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে তাহলেই আমার অনিদ্র রোগে রাত জাগা সফল হবে। জয় হোক অনিদ্রার।

হুমায়ূন আহমেদ
এলিফেন্ট রোড
২২-০২-৯৪সারাংশ
এই সায়েন্স ফিকশনের মূল চরিত্র হল মনসুর সাহেব। তিনি একজন স্কুল-শিক্ষক। তার পরিবার-পরিজন বলতে তেমন কেউ নেই। একা একা থাকেন। আর দিন-রাত গণিতের বিভিন্ন জটিল জটিল সমস্যা নিয়ে ভাবেন। এক রাতে তিনি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাহত হন। তারপর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন অপ্রকৃতস্থতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি একজনকে সব সময় তার সাথে দেখতে পান, যে কি না নিজেকে শূন্য জগতের বাসিন্দা বলে দাবি করে। সে যুবক আরও দাবি করে যে সে মনসুর সাহেবকে সাহায্য করার জন্যে এসেছে। এরপর থেকে লেখক গল্পে বিরাট মায়াজাল সৃষ্টি করেছেন। এই শূন্য জগত থেকে আসা যুবক যাকে মনসুর সাহেব তার প্রিয় রাশিমালার নামে ফিবোনাক্কি বলে ডাকেন, তার কি আসলেই বাস্তব জগতে কোন অস্তিত্ব আছে না কি সে শুধুই মনসুর সাহেবের কল্পনা? এই প্রশ্নের উত্তর গল্পের শেষে পাওয়া যায়। এদিকে দেখা যায় মনসুর সাহেব ফিবোনাক্কি রাশি ব্যবহার করে এক জটিল গাণিতিক রহস্য সমাধানের প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন। যেই সমস্যা মনসুর সাহেবের দাদা এবং বাবাও সমাধান করার চেষ্টা করেছিল। অর্থাৎ তারা তিন পুরুষ ধরে এই কাজটি করছেন। কিন্তু মনসুর সাহেবের কোন উত্তরাধিকার না থাকায় তাকে এই সমস্যাটা সমাধান করতেই হবে। এদিকে তার শরীরও ক্রমশই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তার সময় শেষ হয়ে আসছে। তিনি কি পারবেন এই সমস্যার সমাধান করতে? মনুষ্য জাতি কি সক্ষম হবে এমন এক রহস্যের সমাধান বের করতে যা তাদেরকে শূন্য মাত্রার জগতে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে? ‘শূন্য’ বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এখানে গল্পের কাহিনী বিজ্ঞানের খুব কাছাকাছি থেকে তৈরি করা হয়েছে।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “শূন্য”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top